মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার ম্যাচ চলাকালীন মাঠে হট্টগোল ও প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় খেলোয়াড়সহ কমপক্ষে ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শ্রীনগর স্টেডিয়ামে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পরিচালিত শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
সংঘর্ষের পর মাঠের ভেতরে থাকা অন্য খেলোয়াড় ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এই হামলায় কুকুটিয়া ইউনিয়ন ওয়ারিয়র্স দলের বেশ কয়েকজন সদস্য মারাত্মক জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সুরদিয়া এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে মঈনুল, পূর্ব মুন্সীয়া গ্রামের বশিরের পুত্র রায়হান, কালামের ছেলে রিসান, মোকাজ্জলের সন্তান অভি খান এবং নাগরভাগ এলাকার রিপন শেখের ছেলে সমিতসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। পরবর্তীতে সেখানে নিয়োজিত পুলিশ, আনসার ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
আয়োজক কমিটির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, স্টেডিয়ামে চলমান ওই প্রতিযোগিতায় শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়ন রয়েলেন্স ও কুকুটিয়া ইউনিয়ন ওয়ারিয়র্স একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। খেলার দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে মাঠের ভেতর শ্যামসিদ্ধি দলের একজন খেলোয়াড় কুকুটিয়া দলের মঈনুলের জার্সি টেনে ধরলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। এই ঘটনার জের ধরে মুহূর্তের মধ্যে শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থক সীমানা প্রাচীর ডিঙিয়ে মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়েন। তারা কুকুটিয়া দলের খেলোয়াড়দের ওপর চড়াও হলে মাঠ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে কুকুটিয়া দলের পাঁচজন মূল খেলোয়াড়সহ মাঠের ভেতরে-বাইরে থাকা আরও বেশ কয়েকজন দর্শক ও কর্মী আহত হন।
এই অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীনগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মিল্টন দত্ত জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।







